দেশের ই-কমার্স খাতে গত কয়েক বছরে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যেখানে দারাজ বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি, গ্রাহকদের ক্রয় চাহিদার পরিবর্তন ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-কমার্স খাতের প্রসারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন শপিংকে আরো সহজ, নিরাপদ ও জনপ্রিয় করে তুলেছে। এরই মধ্যে দারাজের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ৩৬০ ডিগ্রি ডিজিটাল কমার্স ইকোসিস্টেম তৈরি করা। দেশের ই-কমার্স খাতে দারাজের ভূমিকা, গ্রাহকদের অনলাইন শপিংয়ে আরো আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বণিক বার্তাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এএইচএম হাসিনুল কুদ্দুস রুশো
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। আগামী তিন-পাঁচ বছরে এ খাত কোথায় যাবে এবং এজন্য দারাজ কী ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে?
বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে কভিড-পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে, সেই সঙ্গে ক্রেতাদের চাহিদাও বদলেছে। পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনের ধরনও পাল্টে গেছে। ফলে মানুষ এখন ঘরে বসেই নিত্যপণ্যসহ সব ধরনের সেবা পেতে চান। এ পরিবর্তিত বাস্তবতার কারণে আগামী তিন-পাঁচ বছরে ডিজিটাল কমার্স আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আরো গভীরভাবে মিশে যাবে। আর এটি কেবল শহরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে এবং প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হবে। এর পেছনে দারাজের সুবিশাল পণ্য বৈচিত্র্য, নির্ভরযোগ্য বিক্রেতা ও উন্নত গ্রাহকসেবা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশী গ্রাহকদের অনলাইন শপিং অভ্যাস কেমন পরিবর্তিত হয়েছে? এক্ষেত্রে দারাজ কী ভূমিকা পালন করেছে?
নয় বছর আগে দারাজ যখন যাত্রা করে, তখন অনলাইন শপিং একটি নতুন ধারণা ছিল। এখন আমরা গর্বের সঙ্গে বলি, দারাজের মাসিক ৮০ লাখ সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। গ্রাহকরা বর্তমানে অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও নিরাপদ অনলাইন শপিং সম্পর্কে অনেক সচেতন। দারাজ এ পরিবর্তনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ আমরা এমন একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছি যেখানে গ্রাহকরা রেটিং ও রিভিউ দেখে পণ্য মূল্যায়ন করতে পারেন। যারা সহজে শপিং করতে চান, তাদের জন্য দারাজ মলে মানসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য পণ্য সরবরাহ রয়েছে, যেন প্রতিটি ক্রয়েই ক্রেতার স্বাচ্ছন্দ্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়। এমন নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করার কারণে মানুষ এখন অনলাইন শপিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
এবার দারাজের ৬.৬ বিগ ঈদ সেল দিচ্ছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় থেকে শুরু করে গরু জেতার সুযোগ। এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ ক্যাম্পেইনের পেছনে অনুপ্রেরণা কী ছিল?
ঈদুল আজহা হলো কোরবানি, আনন্দ, উদযাপন ও একত্রিত হওয়ার উৎসব। ৬.৬ বিগ ঈদ সেলে আমরা এ চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে চেয়েছি অসাধারণ ডিল ও উৎসবের আমেজে। গ্রাহকদের জন্য সেরা দাম ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বিক্রেতাদের সহযোগিতায় এ ক্যাম্পেইন রয়েছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ফ্ল্যাশ সেল থেকে শুরু করে ‘জিতছেন ভাই’ গিভ অ্যাওয়ের মাধ্যমে ঈদে গরু জেতার সুযোগ। এর মাধ্যমে আমরা আসলে এমন একটি স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করতে চাই, যা কেনাকাটার চেয়েও বেশি কিছু। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার মতো স্মৃতি, যেখানে অনলাইনে গরু জেতা এমন একটি গল্প, যা কেনাকাটা করার চেয়েও বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দারাজ কীভাবে বিভিন্ন অফার, ফ্রি ডেলিভারি ও সহজ রিটার্নের মতো পরিষেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে?
সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে গ্রাহকদের একটা স্বাচ্ছন্দ্যময় অভিজ্ঞতা দেয়াই দারাজের মূল শক্তি। গিভ অ্যাওয়ের মতো আয়োজন গ্রাহকদের নজর কেড়েছে; কিন্তু যারা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের সঙ্গে আছেন, তারা পণ্যের মান, কম ডেলিভারি খরচ ও নির্ভরযোগ্য রিটার্ন-রিফান্ড সিস্টেমের জন্যই আমাদের সঙ্গে আছেন। যেমন ৬.৬-এর মতো বড় ক্যাম্পেইনের সময়েও আমরা ডেলিভারি ও রিটার্ন প্রক্রিয়া আগের মতোই রেখেছি, যেন গ্রাহকরা বছরের অন্য সময়ের মতোই নির্ভরযোগ্য সেবা পান। এভাবেই আমরা গ্রাহকদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় করে যাচ্ছি।
ঈদুল আজহার মতো বড় উৎসবে এ ধরনের ক্যাম্পেইন কীভাবে গ্রাহকদের সঙ্গে বিশ্বাস ও আবেগপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে?
উৎসব মানেই পরিবারের জন্য আনন্দঘন মুহূর্ত। এ সময় গ্রাহকদের আমরা দাম, স্বাচ্ছন্দ্য ও নির্ভরযোগ্যতার মাধ্যমে কেবল সেবা প্রদান নয়, তাদের উৎসব উদযাপনেরও অংশ হতে চাই। ৬.৬ বিগ ঈদ সেলের মতো ক্যাম্পেইনগুলো কেনাবেচার বাইরেও আবেগময় সংযোগ তৈরিতে কাজ করে।
ক্রেতাদের প্রধান প্রত্যাশা দ্রুত ডেলিভারি, সহজ রিফান্ড ও নির্ভরযোগ্য গ্রাহকসেবা। দারাজ কীভাবে এসব নিশ্চিত করছে?
দেশজুড়ে গ্রাহকদের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে আমরা লজিস্টিকস ও প্রযুক্তিতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছি। দারাজের সুবিস্তৃত ডেলিভারি ফ্লিট, লোকাল ড্রপ-অফ ও ডেলিভারি হাব এবং এক্সটারনাল লজিস্টিকস পার্টনারদের সঙ্গে স্মার্ট অংশীদারত্ব দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করে। প্রতিটি পদক্ষেপে গ্রাহকদের সহায়তার জন্য ২৪/৭ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, লাইভ চ্যাট ও কাস্টমার কেয়ার টিমের মাধ্যমে সাপোর্ট দেয়া হয়। ভার্চুয়াল সেবার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের গ্রাহক অতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে তাদের সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।
দারাজের কার্যক্রম বড় বড় শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশেষ করে এ ধরনের বড় ক্যাম্পেইনের সময়ে কীভাবে দেশজুড়ে সবার কাছে সমান সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে?
আমাদের গ্রাহক ও বিক্রেতাদের একটি বড় অংশই ঢাকার বাইরের, যা দেশজুড়ে দারাজের উপস্থিতির বড় প্রমাণ। আমরা ৬৪ জেলার জন্য স্থানীয় ডেলিভারি ব্যবস্থা উন্নত করেছি; গ্রামীণ অঞ্চলের জন্য কাস্টমাইজড লজিস্টিকস সলিউশন নিশ্চিত করেছি। ৬.৬ ক্যাম্পেইন কেবল শহরকেন্দ্রিক নয়; দেশের যেকোনো প্রান্তের ক্রেতাদের জন্য সমান অফার, ডেলিভারি ও সাপোর্ট নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা সবার জন্য সহজলভ্য ই-কমার্সে বিশ্বাস করি আর সেটাই বাস্তবায়ন করছি। দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষকে ই-কমার্স সুবিধার আওতায় নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য।
দারাজ কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য ও লাভজনক অনলাইন শপিং গন্তব্যে পরিণত হয়েছে?
বিশ্বাস গড়ে ওঠে ধারাবাহিকতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর ভিত্তি করে। দারাজ একটি পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছে, যেখানে একদিকে গ্রাহকদের সুরক্ষায় রয়েছে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অপরদিকে বিক্রেতাদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য রয়েছে দারাজ ইউনিভার্সিটি। আমাদের লক্ষ্য একটি পরিপূর্ণ ৩৬০ ডিগ্রি ডিজিটাল কমার্স ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে একটি ক্রমাগত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিতে সফলভাবে পথচলার সুযোগ করে দেবে।